গ্রামের সেই পিচ্চি মেয়ে | অনেক সুন্দর একটি গল্প
—কিরে নীলয় তাড়াতাড়ি ওঠ………
সকাল হয়ে গেছে সেইটা কি খেয়াল আছে? চট করে উঠ……(আম্মু)
—উমমম আম্মু তুমি যাও আমি উঠছি?
- সম্পর্কের রূপান্তরের কাহিনী পুরনো প্রেমের নতুন চেহারা
- এক জোড়া নূপুরের সেই ভালোবাসা
- ভালোবাসা সত্যিই কষ্টের – অতীতের ব্যাথা
- প্রেমের রূপকথা – ভালোবাসার গল্পে মাতালো
- প্রেম করবো তোর সাথে – ভালবাসার চাহিদা
তারপর আম্মু চলে গেলো? আর আমি তাড়াতাড়ি করে বিছানা থেকে ওঠে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে আসলাম.. আজকে আমাদের সবার গ্রামে যাওয়ার কথা… আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগে গ্রাম ত্যাগ করে শহরের এই কোলাহলমিশ্রিত পরিবেশে বড় হচ্ছি….??

ও এক্সট্রেমলি স্যরি আমি তো পরিচয় দিতে ভুলে গেছি…? আমি কাব্য আহম্মেদ নীলয়…….
বাবা মায়ের ছোট ছেলে??ইন্টার ১ম বর্ষের ভাঙ্গাচূড়া স্টুডেন্ট….
তো তারপর ফ্রেস হয়ে নিচে গিয়ে সবার সাথে নাস্তা করলাম….
আজ আমি খুব খুশি। কারন অনেক দিনের সেই চেনা পরিবেশের সাথে পরিচয় হতে যা*চ্ছি আজ……
আর কেন এই ১২ টা বছর সেই ছোট্র গ্রামের মাটিতে পা রাখিনি তার তো কোনো কারণ আছেই..পরে সেইটা বলছি…?
তারপর আব্বু, আম্মু আর আমি আমাদের গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে……..

গ্রামের সেই সমা*ন্তরাল পথ,, ফসলের সবুজ মাঠ,, প্রকৃতির সেই মায়াভরা হাঁসি,, ছলছল নদীর পানি,, কিচির মিচির পাখির ডাক,, দূরের সেই কাঁজল বিলে ভেঁসে বেড়ানো পানকৌড়ির দল,, সত্যিই অপরূপ রূপে সাজানো এই গ্রামের সৌন্দর্যের মুগ্ধতা ভুলার
নয়….
ছেলেবেলার সেই ছোট্র দুষ্টু মিষ্টি খুনসুটির কথা ভাবতে ভাবতে মুচকি হাঁসলাম…
আমাদের বাস গন্তব্যেস্থলে এসে পড়েছে…
বাস থেকে নেমে রাস্তার এক পাশে দাঁড়িয়ে আছি? এরপর একটা অটো করে দাঁদুবাড়িতে যাচ্ছি। এমন সময় আব্বুর বাল্যকালের এক বন্ধুর সাথে পরিচয়? তাঁরা দুজনে মুসাফা করল, একে অপরের কাজকর্ম, ভালো ও মন্দের কথা জিজ্ঞাস করল..??
তখন আব্বুর সেই বন্ধুটা বললো।
—“পুরনো কথা বাদ দিয়ে নতুন করে আরম্ভ কর। একটা ভুলের জন্য নিজের লাইফের সব স্বপ্ন সেক্রিফাইসের কোনো মানে হয় না। অতীতকে ভুলে গিয়ে বর্তমান কে প্রাধান্য দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
আর তুই কি মনে করছিস তোকে ইনসাল্ট করে কষ্ট দিয়ে তোর ভাই ভালো আছে…??
কথা বলতে বলতে অটো দাদাবাড়ি এসে থামলো…
আব্বুর সেই বন্ধুটা আব্বুকে অনেকটা আনইজি সিচ্যুয়েশন থেকে বের করে তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো।
আমার কেমন একটা ডাউট লাগছে যে,, আব্বুর হঠাৎ গ্রামে আসার মুড হলো কেন…??
এমন একটা পাষন্ড মনের মানুষের ক্ষেত্রে ওই পুরনো স্মৃতিবিজড়ীত সব ঘটনা এত সহজে মেনে নেওয়া ইটস ইম্পসিবল…এনিথিং ইলস……..
তারপর আমরা বাড়ির ভিতরে ডুকে দেখি সব আগের মতোই আছে কিন্তু মানুষগুলা পাল্টে গেছে।
আমাদের দেখে সাথে সাথেই দাদু বলে উঠলো।

—আরে তোরা এসে পড়েছিস.?
দাদুর সাথে অবশ্য আমাদের আগে থেকেই কন্ট্যাক্ট ছিলো..??
তারপরেও দাদু আমাদের দেখে ওতোটা আপসিট না যতটা আমি গেইস করছি…???
তো আমরা আমাদের ঘরে গিয়ে ফ্রেস হলাম। আব্বু টায়ার্ড ছিলো এমনিতেই প্রেসারের পেশেন্ট তারপর আবার লং জার্নিতে শরীর খুব উইক।
তাই আব্বু রেস্ট নিচ্ছে। এরপর দাদু এসে আম্মুকে বললো।
—বউ মা যেই প্লান তোমাকে বলেছি সেই অনুযায়ী কাজ করবা কেমন। আর হে আমার ছেলে যেন কিছুতেই জানতে না পারে। একটুও অন্যরকম কিংবা ভুলের আশঙ্কা দেখা দিলে প্লান সাকসেসফুল হবে না..
এইদিকে আমি ভাবছি এ কোন যুগে আইসা পড়লাম…. শ্বশুড় আর পুত্রবধু প্লান করে কাজ করে…??
–আচ্ছা আম্মু দাদু পুরো ঘটনাটা কি বলবা.?(আমি)
—পরে বলছি.?(আম্মু)
এরপর বাহিরে এসে দেখি পিংক এন্ঞ্জেল বাড়ির দিকে আসছে। ওর চোখ দেখে আর চিনতে বাকি রইলনা যে এইটা কে। এই হচ্ছে আমার সেই ছোট্ট কালের সাথী মিরা। যাকে আমি পাগলের মতো ভালোবাসতাম সারাক্ষণ ওর সাথে ঝগড়া করতাম,, ওর খাবার কেঁড়ে খেয়ে ফেলতাম। ওকে না ডিস্ট্রাব করলে আমার পেটের ভাত হজম হতো না।

